Sunday, April 26, 2009

ধানকাজ

হা তীর্থ নদী জল করতলে খননের দায়
সন্তাপে কাঁপে বুক উঠে আসে শ্যামা ঘাস
দীর্ঘ ফলার নিচে ডিম ভাঙ্গে, খোসা বেয়ে খলখল রক্ত কোমল
চেপে বসা মাটিদেহ, মা তোমার অননে-র জঁইফুল-
কানের লতিকা ছুঁয়ে জেগে ওঠে অঙ্কুরিত নম্র বিছানা

আমিও জনক রাজা- শাপমন্যি করি চাষ
ভোরের শিশুটি হাঁটে একহাত দূরে দূরে- হাতে পাপড়ির ক্রোধ
আমাদের ত্বকের ভিতরে রোজ সূর্য ডোবে
জ্বলে ওঠে নিষ্পত্র সারি সারি মৃতরাত

এসেছে কালক্ষুধা বাসনা চতুর
গুণে গুণে বুনে গেছি আমাদের করোটিতে আদি পাপ
শেকড় মহিমা মেনে ধানের স্বভাব

মা তোমার যতটুকু আলো অনঙ্গের গীতল বাতাস
অযোনিসম্ভূত দুধ- ঢালো তরল ক্ষমতা- ঢালো জ্ঞান
বংশ পরম্পরা ভেদে ঢেলে দিও হাড়ের ইশারা

তারপর আছে রোদ খরার প্রাচীন খেদ
বৃষ্টিমাছ লাফ দিয়ে বাড়ে পালায় কুশির নিভৃতে
জলের ঘটনা তবু লিখে নিও
লিখো পতঙ্গ প্রবল দিন শিলাঘাতে ঝড়ের তৃষ্ণা জেনো
গর্ভিনীর সহজ পতন
আমি নই তোমার ঘাতক- আছেন বণিক প্রধান
আরও কিছু লেখাজোঁকা কষ্টে প্রবীণ

এই হেতু মা তোমার দুধ নয়, শীষে ফোটে বিষফুল
অননে-র ফলিত হলুদ

No comments:

Post a Comment